মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ভোজশালা কমপ্লেক্সকে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন ভারতীয় আদালত

admin

May 16, 2026

মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ভোজশালা কমপ্লেক্সকে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন ভারতীয় আদালত

ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত একাদশ শতাব্দীর বিতর্কিত ভোজশালা-কামাল মওলা মসজিদ স্থাপনাটিকে ‘দেবী বাগদেবীর (সরস্বতী) মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন দেশটির মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া এক যুগান্তকারী রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়ের মালিকানার দাবি খারিজ করে দিয়ে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়কে পূর্ণ উপাসনার অধিকার দিয়েছেন।

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর হাইকোর্টের বিচারপতি বিনয় কুমার শুক্লা এবং অলোক আওয়াস্থির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ ২৪২ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করেন। অযোধ্যার ‘রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ’ মামলার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের নজির ও আইনি ভিত্তিকে স্মরণ করে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

২০০৩ সালের সরকারি আদেশ বাতিল ও বিকল্প জমির প্রস্তাব
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) ২০০৩ সালের একটি পুরোনো আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন। ওই পূর্ববর্তী আদেশে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রতি শুক্রবার ওই স্থানে জুমা নামাজ পড়ার এবং হিন্দুদের জন্য শুধু মঙ্গলবার ও বসন্ত পঞ্চমীতে ভোজশালা কমপ্লেক্সে উপাসনার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। নতুন রায়ে মুসলিম পক্ষের দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে আদালত জানান, মুসলিম প্রতিনিধিরা চাইলে ধার জেলায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছে বিকল্প উপযুক্ত জমির আবেদন করতে পারেন এবং রাজ্য সরকার আইন অনুযায়ী তা বিবেচনা করবে।

লন্ডন থেকে দেবী সরস্বতীর মূর্তি ফেরানোর নির্দেশ
একাদশ শতাব্দীর এই প্রাচীন স্থাপনাটি মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত। আদালত তাঁর রায়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আরেকটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৮০০ সালের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়া দেবী সরস্বতীর একটি ঐতিহাসিক মূর্তি দেশে ফিরিয়ে এনে এই ভোজশালা কমপ্লেক্সে পুনঃস্থাপনের জন্য অবিলম্বে আইনি উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। তবে সামগ্রিক সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এএসআই-এর হাতেই বজায় রাখা হয়েছে।

উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি ও প্রতিক্রিয়া
শুনানিকালে মুসলিম পক্ষ যুক্তি দিয়েছিল যে, ১৯৩৫ সালের আগস্টে তৎকালীন ধার রাজ্যের একটি সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে এই স্থানটিকে ‘ভারত সরকার আইন, ১৯৩৫’-এর অধীনে মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত এই দাবি নাকচ করে বলেন, ওই আইনটি ১৯৩৭ সালের এপ্রিলে কার্যকর হওয়ায় ১৯৩৫ সালের ঘোষণার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এছাড়া মুসলিম পক্ষ এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক জরিপ প্রতিবেদনটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করলেও আদালত তা খারিজ করে জরিপটিকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত বলে রায় দেন।

মামলায় হিন্দু পক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া ধারের ‘মাওলানা কামালুদ্দিন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ জানিয়েছে, তারা রায়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করছে এবং খুব দ্রুতই এর বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | RDM News 24 | ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Leave a Comment

হোম
নতুন খবর
খবর
যোগাযোগ