আরাস্তুর বাসায় গিয়ে পদত্যাগের চাপ, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে নতুন তথ্য সামনে
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের সময় নানা বিতর্কিত ঘটনার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের লোক বসানো, ঋণসংক্রান্ত চাপ সৃষ্টি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ২০১৭ সালে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ বদলের পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ব্যাংকের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
সাবেক চেয়ারম্যান আরাস্তু খান জানিয়েছেন, একপর্যায়ে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম তার বাসায় গিয়ে তাকে পদত্যাগ করার কথা বলেন। পরে ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে দেওয়া কিছু অর্থ ফেরত চাওয়া এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরানোর বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর তার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, ওই সময় ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক পরিবর্তন আনা হয় এবং পরবর্তীতে ঋণ বিতরণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে এসব অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অর্থ পুনরুদ্ধার এবং দায় নির্ধারণে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এমন সংকট আবারও তৈরি হতে পারে।
📍 আরডিএম প্রতিনিধি | আরডিএম নিউজ ২৪ 📍 ঢাকা, বাংলাদেশ